পুলিশ-নারায়ণী সেনা ধস্তাধস্তি, রাজ্য সরকারকে তালিবানের সঙ্গে তুলনা নিশীথের

ক্ষীরোদা রায়, ধূপগুড়ি: ময়নাগুড়িতে জল্পেশ মন্দিরে নিশীথ প্রামাণিক পুজো দিতে যাওয়ার আগে পুলিশ ও নারায়ণী সেনার মধ্যে চলে ধস্তাধস্তি। আটক ২৫ সেনা। অন্যদিকে ধূপগুড়িতে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিজেপির শহীদ স্মরণ যাত্রায় সাধারণ মানুষের ভিড়। শহীদ স্মরণ যাত্রায় রাজ্য সরকারকে অগণতান্ত্রিক তালিবানি শাসনের সঙ্গে তুলনা নিশীথের। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে জোর নিশীথের।

ভারতের স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণে এবং ইতিহাসের পাতায় অনুল্লেখ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাতে নিশীথ প্রামাণিকের নেতৃত্বে বিজেপির শহীদ সম্মান যাত্রা চলছে উত্তরবঙ্গে। গত ১৭ই আগস্ট শুরু হয়েছে এই যাত্রা। এইদিন ময়নাগুড়ি হয়ে ধূপগুড়ি পৌঁছন নিশীথ এবং সেখান থেকে ফালাকাটা হয়ে কোচবিহার যাবেন।

উত্তরবঙ্গে বিজেপির শহীদ সম্মান যাত্রা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চলছে ঠান্ডা লড়াই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হবার পর ১৭ই আগস্ট উত্তরবঙ্গে পদার্পণ করেন জন বারলা ও নিশীথ প্রামাণিক। দুই মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে রওনা হন গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণী সেনার সদস্যরা সহ আদিবাসী সমাজের মহিলারা। কোভিড প্রোটোকল না মানায় বাগডোগরা পুলিশ তাঁদের আটক করে। ১৮ই আগস্ট শিলিগুড়িতেও বিজেপির শহীদ স্মরণ যাত্রায় নারায়ণী সেনার সদস্যদের শিলিগুড়ি হিন্দি হাইস্কুলে আটক করা হয়। তবে এদিন ময়নাগুড়িতেও‌ পুলিশ ও নারায়ণী সেনার সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। নিশীথ প্রামাণিক জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন তার আগে পুলিশের সঙ্গে নারায়ণী সেনার সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে, নারায়ণী সেনার সদস্যদের পোশাক ছিঁড়ে দেয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, সেনার সদস্যদের পাগড়ী খুলে দেয় পুলিশ। ঘটনায় পথ অবরোধ চলে। পুলিশ নারায়ণী সেনার ২৫ জন সদস্যকে আটক‌ করে, আটক করা হয় তাদের গাড়িও। ধূপগুড়িতে শহীদ স্মরণ যাত্রায় নিশীথ প্রামাণিক রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হবার পর ১৭ই‌ আগস্ট উত্তরবঙ্গে পদার্পণ করি, জন বারলা ও আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে রাজবংশী সহ বিভিন্ন জনজাতির সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জায়গায় জমা হয়েছেন, কিন্তু রাজ্য‌ সরকার তাদের ওপর নির্মমভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়েছে।” তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার ও শাসক দল চেষ্টা করছে আমাদের শহীদ স্মরণ যাত্রা বানচাল করতে।” এইদিন নিশীথ প্রামাণিক ময়নাগুড়িতে জল্পেশ মন্দিরে পুজো দেন। পুজো দেওয়ার পর তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গবাসীর মঙ্গল কামনা করে জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিতে আসা। আপনারা জানেন আমরা রাজবংশী সমাজ শিবচন্ডীর ভক্ত। তাই আজকে বাবা মায়ের দর্শন করতে এলাম।”

বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে চলা রাজনৈতিক হিংসা‌ প্রসঙ্গে ধূপগুড়ির সভায় নিশীথ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তালিবানি শাসনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে একটি অগণতান্ত্রিক সরকার চলছে। আমরা পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব এবং বাংলার হারিয়ে যাওয়া গৌরব আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব।”

এইদিন ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি দীপেন প্রামাণিক, ধূপগুড়ির‌ বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায়, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়, দলের মুখপাত্র দিপ্তীমান সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ির‌ সাংসদ জয়ন্ত রায়, ময়নাগুড়ির বিধায়ক কৌশিক রায় সহ অনেকে। বিজেপির শহীদ স্মরণ যাত্রা উপলক্ষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও‌ আটক হয়েছেন বহু বিজেপি কর্মী ও‌ সমর্থক। তার প্রতিবাদে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে যান জয়ন্ত রায় ও কৌশিক রায়। জেলা পুলিশ সুপারের দেখা না পাওয়ায় তাঁরা সেখানে ধর্ণা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *