সৎ বাবার হাতেই বলি নাবালক, নিখোঁজের ৭ দিন পর গাজলডোবা জঙ্গল থেকে উদ্ধার নিথর দেহ
অর্ঘ্য বর্মন, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ ৭ দিনের উৎকণ্ঠার পর অবশেষে উদ্ধার হলো নিখোঁজ নাবালক কিশোরের নিথর দেহ। তবে উদ্ধারের পর উঠে এল এক মর্মান্তিক সত্য। অভিযোগ, নিজের সৎ বাবার হাতেই প্রাণ হারাতে হয়েছে ওই নাবালককে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজলডোবা ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ মার্চ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিল ওই নাবালক কিশোর। দীর্ঘ সময় সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা মা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগে তিনি সরাসরি আঙুল তোলেন তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী অর্থাৎ কিশোরের সৎ বাবার দিকে। মায়ের দাবি ছিল, এই নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে স্বামীর হাত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ ফাঁড়ি ঘটনার তদন্তে নামে। সন্দেহভাজন সৎ বাবাকে নজরদারিতে রাখা হয় এবং গত ১৬ মার্চ কোচবিহার শিতুলকুচি পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরার মুখে অভিযুক্তের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তদন্তকারী আধিকারিকদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। অবশেষে পুলিশের জেরার মুখে অভিযুক্ত তার অপরাধ কবুল করে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ গাজলডোবা ফরেস্ট রেঞ্জ থেকে ওই নাবালকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। জঙ্গলের নির্জন এলাকা থেকে নিথর দেহটি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে সেই নাবালক কিশোরকে চলতি সাব – ক্যানেল ধাক্কা দেয়। বুধবার পুলিশ সেই নাবালক কিশোরের মৃত্যু দেহ উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই দিন অভিযুক্ত উত্তর কুমার রায়ের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে নাবালক কিশোরের মা। নিখোঁজ কিশোরের মায়ের বয়ান অনুযায়ী, বাড়িতে অরিজিতের ওপর নিয়মিত অমানবিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত তার সৎ বাবা। এমনকি দিনের পর দিন তাকে অভুক্ত রাখা হতো বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা। নির্যাতনে বাধা দিতে গেলে মাকেও চরম হেনস্থার শিকার হতে হতো। নাবালক খুনের অভিযোগে ধৃত উত্তম কুমার রায়ের বিরুদ্ধে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। কেবল অপরাধ জগতের অন্ধকার নয়, বরং সুকৌশলে নারীদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে আর্থিক প্রতারণার এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল সে। স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে, চার-পাঁচজন বিধবা ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাকে ‘ভালোবাসার’ টোপ দিয়ে বিয়ে করাই ছিল তার মূল পেশা। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত উত্তম কুমার রায় লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিত এমন মহিলাদের, যাদের মাথার ওপর কোনো অভিভাবক নেই বা যারা চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। তাদের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা বিয়ে করে বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত করত সে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। বিয়ের পর বা ঘনিষ্ঠতা হওয়ার পর সুকৌশলে ওই মহিলাদের ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড নিজের দখলে নিয়ে নিত উত্তম। মাসের শেষে যখন ওই মহিলারা তাঁদের বেতন পেতেন, সেই পুরো টাকা একাই তুলে নিত অভিযুক্ত। অভিযোগ, কয়েক হাজার টাকার বেতন হাতিয়ে নিয়ে সারা মাসের খরচের জন্য ওই মহিলাদের হাতে নামমাত্র ৩০০০ টাকার বাজার ধরিয়ে দিত সে। বাকি সমস্ত টাকা নিজের বিলাসিতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যয় করত উত্তম।পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো অপরাধমূলক যোগসূত্র আছে কি না।ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
